মিথ্যা মামলায় চরম হয়রানির শিকার ছাত্রদল নেতা মুমিন, সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

 মিথ্যা মামলায় চরম হয়রানির শিকার ছাত্রদল নেতা মুমিন, সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নিষ্ঠুরতার ক্ষত এখনো কাটেনি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও ‘গায়েবি’ মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ও আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমলাতান্ত্রিক ও পুলিশি জটিলতা এবং দুর্নীতির কারণে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এখনো বিগত আমলের সাজানো মামলার বেড়াজালে বন্দি।

তেমনই এক চরম আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার জের ধরে এবার তার সম্পত্তি ক্রোকের (ক্রোকি পরোয়ানা) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন আদালত আব্দুল মুমিনের বিরুদ্ধে এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারি করেন। তবে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুমিনের নিজের নামে স্থানীয় বা রাষ্ট্রীয় রেকর্ডে কোনো ধরনের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নেই। তা সত্ত্বেও আদালত থেকে এই ধরনের ক্রোকি পরোয়ানা জারি হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, মুমিনকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যেই এই নির্দেশ জারি করানো হয়েছে।

স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুমিন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। এরপর থেকেই তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ক্যাডারদের ক্রমাগত নজরদারি ও প্রতিহিংসার শিকার হন।

পরবর্তীতে ২০২১ ও ২০২২ সালে শ্রীমঙ্গল থানায় আব্দুল মুমিনের বিরুদ্ধে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়—যার একটি সাজানো হত্যা মামলা এবং অন্যটি হত্যাচেষ্টা মামলা। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়, যা এখনো বলবত আছে। জীবননাশের হুমকি, পুলিশি হয়রানি এবং প্রাণভয়ে একপর্যায়ে আব্দুল মুমিন দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সাজানো সেই মিথ্যা ও গায়েবি মামলার ধারাবাহিকতাতেই গত ৪ জুন আদালত থেকে তার সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ আসে, যা দেশের বর্তমান মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এই বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় যোগাযোগ করা হলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এজাতীয় মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা বিচারিক নির্দেশনা তারা পাননি। ফলে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া এবং পরোয়ানা কার্যকর করার পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মিথ্যা ও সাজানো মামলার জের ধরে কোনো ব্যক্তির নিজের নামে সম্পত্তি না থাকার পরও ক্রোকের আদেশ দেওয়া চরম অন্যায়। এটি স্বৈরাচারী আমলের বিচারিক হয়রানি ও ‘মামলা বাণিজ্যের’ একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

info

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *